বাংলা বই ষষ্ঠ শ্রেণি রাখালের বুদ্ধি NCTB book

                                                  রাখালের বুদ্ধি

 

                                                                             ভিনদেশি রূপকথা

 

এক দেশের মন্ত্রী একটা খুব বড় রকমের অপরাধ করেছিলেন। মন্ত্রী সে দেশের রাজার কাছে অনেক ক্ষমা চাইলেন, বললেন অমন ভুল আর কোনাে দিন করবেন না। তখন রাজা বললেন, ‘বেশ, তােমাকে ক্ষমা করব, যদি তুমি আমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পার। তােমাকে তিন মাস সময় দিচ্ছি। প্রথম প্রশ্ন : কত দিনে আমার মৃত্যু হবে, দ্বিতীয় প্রশ্ন : ঠিক কত সময়ে আমি সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে পারব, তৃতীয় প্রশ্ন : যেদিন তুমি এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমার কাছে আসবে সেদিন বলতে হবে সেই মুহূর্তে আমি কী ভাবছি, এবং তা যে ভুল তা প্রমাণ করতে হবে।’ প্রশ্ন শুনে মন্ত্রীর যেন মাথায় বাজ ভেঙে পড়ল। দেশ-বিদেশের কত জ্ঞানী-গুণীর সঙ্গে দেখা করলেন, কিন্তু একটা প্রশ্নেরও উত্তর পেলেন না। দিন যায়, দিনের পর মাস। তিন মাস পূর্ণ হতে যখন আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, তখন এক রাখালের সঙ্গে তার দেখা হলাে। রাখাল তাে প্রথমে চিনতেই পারেনি তাকে, যখন চিনতে পারল, অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে গেল। বলল, “এ কী মন্ত্রীমশাই, হায় হায়, আপনার এ কী চেহারা হয়েছে?’ মন্ত্রীমশায়ের কাছে তার দুঃখের কাহিনি শুনল রাখাল। বলল, ওঃ এই ব্যাপার? কিছু ভাববেন না মন্ত্রীমশাই, আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব। আমার কথামতাে কাজ করবেন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।’

তিন মাস যেদিন শেষ হল, মন্ত্রীমশাইকে নিয়ে রাখাল গেল রাজসভায় মন্ত্রীমশাই সেজেছেন রাখাল, আর রাখাল সেজেছে মন্ত্রীমশাই। মন্ত্রীকে দেখে রাজা হেসেই ফেললেন। বললেন, বাঃ মন্ত্রী, খাসা চেহারা বানিয়েছ তাে! আমার প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত? ‘হা মহারাজ, প্রস্তুত। আপনার প্রথম প্রশ্ন—আপনি ঠিক কতদিন বাঁচবেন। তার উত্তর হল, আপনি ঠিক ততদিনই বাঁচবেন যতদিন না আপনার শেষ নিশ্বাস পড়ছে, শেষ নিশ্বাস পড়ার আগে কোনােমতেই আপনার মৃত্যু হবে না। রাজা বললেন, ‘বাঃ মন্ত্রী, সাবাস! ঠিক উত্তর দিয়েছ। বেশ, এবার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দাও। ‘মহারাজ, আপনার প্রশ্ন হচ্ছে, সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে আপনার কত সময় লাগবে। এর উত্তর হলাে, যদি আপনি সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের সঙ্গে সমান বেগে চলতে থাকেন তাহলে পরদিন সকালে সূর্য ওঠার সময় পৃথিবী ঘুরে আসতে ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা সময় লাগবে। এ উত্তরও রাজার পছন্দ হল। তিনি বললেন, ‘বেশ, এবার শেষ প্রশ্ন। বল এই মুহূর্তে আমি কী ভাবছি, আর যা ভাবছি তা যে মিথ্যা তা প্রমাণ কর।’ উত্তরে মন্ত্রীবেশী রাখাল বলল, “মহারাজ, আপনি অবাক হয়ে ভাবছেন, আপনার অমন নাদুস-নুদুস মন্ত্রী কেমন করে এমন রােগাপটকা হয়ে গেল। রাজা বললেন, ‘সত্যিই তাে, সে-কথাই তাে আমি ভাবছি। বেশ, এবার প্রমাণ কর যা ভাবছি তা ঠিক নয়! ‘এই দেখুন প্রমাণ, মহারাজ।’ এই বলে মন্ত্রীবেশী রাখাল এক টানে তার মন্ত্রীর পােশাক খুলে ফেলল। রাখালের পােশাক পরা মন্ত্রী কাঁচুমাচু হয়ে সভার এক কোণে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছিলেন, ছদ্মবেশ খুলে ফেললেন তিনি। বললেন, ‘মহারাজ, দেখুন তাে, চিনতে পারেন কি আপনার মন্ত্রীকে?

আসলে মন্ত্রী হলাম আমি, যাকে আপনি মন্ত্রী বলে মনে করেছিলেন সে নয়।’ মহারাজ যখন শুনলেন এই রাখালের বুদ্ধিতেই মন্ত্রীর প্রাণরক্ষা হলাে তখন তাকে অনেক ধনরত্ন দিলেন, আর মন্ত্রীর সব অপরাধ ক্ষমা করলেন। সারসংক্ষেপ এক দেশের এক মন্ত্রী বড় রকমের অপরাধ করেছিলেন। এতে ঐ দেশের রাজা তার উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। মন্ত্রী রাজার কাছে ক্ষমা চেয়ে বললেন তিনি আর অমন ভুল করবেন না; তাকে যেন ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রাজা মন্ত্রীকে শর্ত দিলেন, তিন মাসের মধ্যে তাঁর তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে তিনি মন্ত্রীকে ক্ষমা করে দেবেন। অনেকের সঙ্গে দেখা করেও মন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলেন না। শেষে এক রাখালের সাথে তার দেখা হলাে। রাখাল ছদ্মবেশে রাজদরবারে গিয়ে তার বুদ্ধি দিয়ে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিল। রাজা খুশি হয়ে মন্ত্রীকে ক্ষমা করলেন এবং রাখালকে অনেক ধনরত্ন উপহার দিলেন।

শব্দার্থ

মন্ত্র – রাজার পরামর্শদাতা। ক্রুদ্ধ – রাগান্বিত। ক্ষমা- দোষ বা অপরাধ মার্জনা। মুহুর্ত – নিমেষ। জ্ঞানী-বুদ্ধিমান। বুদ্ধি- ধীরশক্তি, জানবার বা বুঝবার ক্ষমতা। গুণী – গুণবান, অভিজ্ঞ। রাখাল- যে গরু চরায়। খাসা – উত্তম, গুণবান, পছন্দসই। ছদ্মবেশ – আত্মপরিচয় গােপনার্থে পরিধেয় বেশ। ধনরত্ন- সম্পদ

 

অনুশীলনী বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

1.গল্পটির প্রধান চরিত্র কে ?

ক, মন্ত্রী

খ, রাজা।

গ. রাখাল

ঘ. গুণীজন

2.মন্ত্রী কী অন্যায় করেছিল?

ক, রাজাকে অসম্মান করেছিলেন

খ. দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন

গ. সুনির্দিষ্ট কাজটি করেছিলেন

ঘ, কী অন্যায় করেছিলেন

3.তা বলা হয়নি কী করলে রাজা মন্ত্রীকে ক্ষমা করে দিবেন?

ক, মন্ত্রী সারা পৃথিবী ঘুরে আসতে পারলে।

খ, রাজার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে।

গ. মন্ত্রী একজন বুদ্ধিমান রাখালকে নিয়ে আসতে পারলে।

ঘ, আর কোনাে অপরাধ করবে না বলে কথা দিলে।

4.রাজা মন্ত্রীকে যে তিনটি প্রশ্ন করেছিলেন তার একটি হল :

i. উত্তর দেয়ার দিন বলতে হবে রাজা কী ভাবছেন

ii. রাজার সে ভাবনা ভুল তা প্রমাণ করতে হবে

iii. মানুষের জীবনে শ্রেষ্ঠ সময়

কোনটি নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

5.রাজার প্রশ্ন শুনে মন্ত্রী প্রথম কার সঙ্গে দেখা করলেন?

ক. দেশের গুণীজনদের সঙ্গে।

খ, দরিদ্র এক কৃষকের সঙ্গে

গ. শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে

ঘ, কোনাে এক ঋষির সঙ্গে

১. নিচের অংশটুকু পড় এবং প্রশ্নগুলাের উত্তর দাও :

প্রশ্ন শুনে মন্ত্রীর মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল। দেশ-বিদেশের কত জ্ঞানী-গুণীর সঙ্গে দেখা করলেন, কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর পেলেন না। দিন যায়, দিনের পর মাস পূর্ণ হতে যখন আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, তখন এক রাখালের সঙ্গে তার দেখা হল। বলল, ‘ওঃ এই ব্যাপার?”

ক. কে মন্ত্রীর অপরাধ ক্ষমা করেন?

খ, মন্ত্রীর মাথায় বাজ ভেঙে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ. ‘ওঃ এই ব্যাপার? এই উক্তির মধ্যে রাখালের যে মনােভাবের পরিচয় পাওয়া যায় তা

বিশ্লেষণ কর।

ঘ, মন্ত্রীকে মহাবিপদ থেকে রক্ষার্থে রাখাল কীভাবে সাহায্য করল বর্ণনা কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.